এস.এম.শামীম, দিঘলিয়া খুলনা।।খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পতিত জমি এখন শাক-সবজি ও ফুলের সবুজ বাগানে রূপ নিয়েছে। পরিকল্পিত চাষাবাদের মাধ্যমে এক সময়ের অব্যবহৃত জায়গাটি এখন পরিণত হয়েছে টাটকা ও বিষমুক্ত সবজির এক উৎপাদনশীল খামারে, যা সৃষ্টি করেছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগের সূচনা করেন দিঘলিয়া উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম। আর উদ্যোগটিকে আরও সম্প্রসারিত ও কার্যকর করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ।
২৫ শতাংশ পতিত জমি চাষের আওতায়
২০২৪ সালে উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রায় ২৫ শতাংশ পতিত জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা জমিটি পরিষ্কার ও চাষের উপযোগী করতে ইউএনও মো. আরিফুল ইসলাম উপজেলার কর্মচারী মো: লিয়াকত আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে উদ্যোগ নেন।
বর্তমানে ওই জমিতে শসা, লাল শাক, বিটকপি, ধনিয়া, বেগুন, টমেটো, পালং শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও কচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির চাষ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ফুলের গাছও লাগানো হয়েছে।
বিষমুক্ত সবজি, বাড়ছে সৌন্দর্য
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতায় সবজিগুলোর পরিচর্যা করা হচ্ছে। ফলে ফলন হয়েছে বেশ ভালো। এসব সবজি যেমন পুষ্টির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে, তেমনি উপজেলা চত্বরের পরিবেশকে করে তুলেছে আরও সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন।
এই সবজি বাগান দেখতে মাঝেমধ্যেই আশপাশের লোকজন ভিড় করছেন। অফিসের আঙিনায় এমন উৎপাদনশীল ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।স্থানীয়দের আগ্রহ বাড়ছে
পরিদর্শনে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে জায়গাটি অবহেলায় পড়ে থাকলেও এখন সেখানে সবুজ ফসলের সমারোহ চোখে পড়ার মতো। এটি দেখে তারা নিজ নিজ বাড়ির আশপাশের পতিত জমিতে ছোট পরিসরে সবজি চাষের পরিকল্পনা করছেন।
উপজেলার কর্মচারী মো. লিয়াকত আহমেদ বলেন,“গত বছর সীমিত পরিসরে সবজি চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ার পর ইউএনও স্যারের নির্দেশনায় এবার বড় পরিসরে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”খাদ্য নিরাপত্তায় ইতিবাচক ভূমিকা
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষকে কৃষি কাজে সম্পৃক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করবে। পতিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হলে একদিকে যেমন খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হবে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য ও সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে—যা দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
Copyright © 2022 KhulnarKhobor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।