1. info@www.khulnarkhobor.com : khulnarkhobor :
পাইকগাছায় পতিত জমিতে অফসিজন তরমুজ সাম্মাম চাষে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উদ্যোক্তা বিধান - Khulnar Khobor
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি
Copyright © 2022 KhulnarKhobor.com    বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৪৭,আপার যশোর রোড (সঙ্গীতা হোটেল ভবন) ,খুলনা-৯১০০।ফোন:০১৭১০-২৪০৭৮৫,০১৭২১-৪২৮১৩৫। মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
খুলনার খবর
নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত মোল্লাহাটে শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু জাতির অভিভাবক ছিলেন অনিন্দ্য ইসলাম খুলনার দিঘলিয়ায় গণভোট ২০২৬ বিষয়ক জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নওগাঁ ‎মান্দায় রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পর দায়সারা বিটুমিন স্প্রে  পাইকগাছায় ঋন পরিশোধ হলেও আমানতের চেক ফেরৎ না দিয়ে প্রতারনা অতঃপর লিগ্যাল নোটিশ  দিঘলিয়ায় প্রতারক চক্রের হুমকি: সাংবাদিক কিশোর কুমারকে জীবননাশের হুমকি। বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় যশোরে দোয়া মাহফিল যশোর মনিরামপুরে মাদক নিয়ে বিরোধে চালককে কুপিয়ে জখম সুন্দরবনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভিযান, ১০০’কেজি হরিণের মাংস’সহ ৪’হাজার মিটার ফাঁদ জব্দ। কেশবপুরে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত খুলনার দিঘলিয়ায় উপজেলা পরিষদের পতিত জমি এখন সবজি ও ফুলের বাগান মনোমুগ্ধকর পরিবেশে সফল কৃষি উদ্যোগ। তেরখাদায় নির্বাচন আচরণ বিধি পর্যবেক্ষণ ও ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান, প্যানা, ফেস্টুন,ব্যানার ও পোস্টার অপসারণ নওগাঁ ‎মান্দায় উপজেলা চত্বরে রাস্তার কাজে ব্যাপক অনিয়ম জনমনে ক্ষোভ।  নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অমিতের শোকজের জবাবে সন্তোষ প্রকাশ বিচারকের বাংলাদেশের সাহস, দেশপ্রেম ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে থাকবেন বেগম খালেদা জিয়া -আজিজুল বারী হেলাল প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে ঘেরের পানি নিষ্কাশন অব্যহত, বোরো চাষীরা বিপাকে যশোরের চুড়ামনকাঠিতে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে শ্রদ্ধা‌র সঙ্গে স্মরণ বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা মোংলায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভিযান, অপহৃত নারী’সহ অপহরণকারী আটক।

পাইকগাছায় পতিত জমিতে অফসিজন তরমুজ সাম্মাম চাষে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উদ্যোক্তা বিধান

  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৪৩ বার শেয়ার হয়েছে

মোঃ ফসিয়ার রহমান পাইকগাছা খুলনা প্রতিনিধি।। খুলনার পাইকগাছায় ফেলে রাখা ৩৪ একর পতিত জমি। যেখানে ছিল আগাছা,বিষাক্ত সাপ পোকামাকড় আর ইঁদুরের অভয়ারণ্য। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা খালের দুই পাড় পরিষ্কার করে গড়ে তুলেছেন আধুনিক কৃষি খামার। যেন এক অপূর্ব সবুজ প্রান্তর। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফল-ফসলের স্বর্গরাজ্য।

এমন অসাধ্যকে সাধন করে এলাকাটি সবুজ শস্যের বেষ্টনী তৈরি করেরছেন বিধান মন্ডল নামে এক অদম্য কৃষি উদ্যোক্তা। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকসহ প্রকৃতি প্রেমিরা আসছন আধুনিক কৃষি খামারটি পরিদর্শনে। দর্শনার্থীরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন খামাটির মধ্যে আর সেই দৃশ্য দেখে অভিভূত আশপাশের এলাকাবাসী।

৮০ দশকে পাইকগাছায় লবণ পানির চিংড়ি চাষ শুরু হয়। অতি মুনাফার জন্য চিংড়ি চাষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমস্ত উপজেলাব্যাপী। শুধুমাত্র দ্বীপ বেষ্টিত দেলুটি ইউনিয়নের ২২নং পোল্ডারে ওঠাতে দেওয়া হয়নি লবণ পানি। এখানে নেই কোন চিংড়ি ঘের। এখানকার স্থানীয় মানুষ ধান ও তরমুজ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

কালিনগর-সেনেরবেড় অঞ্চালের বৃষ্টির পানি সরবরাহের অন্যতম একটি খাস খাল ডিহিবুড়া। কয়েক বছর আগে এখালটি সরকার পুনঃখনন করে। এখালের পানি দিয়ে এলাকার মানুষ হাজার হজার বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে। খালটা সরকার মাছ চাষের জন্য ইজারা দেন। ইজারা নেন সোনার বাংলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। এলাকাবাসী খালটি ইজারার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে দেখা দেয় বিপত্তি। বিধান ১৫ একরের খাল নিজে ২ একর রেখে বাকি ১৩ একর উন্মুক্ত করে দেন। দুই একর খালে চাষ করছেন মিষ্টি পানির গলদা চিংড়ি ও কার্প জাতীয় মাছ। খালের দু’পাড়ে স্তুপ করে রাখা মাটিতে আগাছা ও জঙ্গল পরিষ্কার করে আরও ৩৩ একর অনাবাদি জমি চাষের আওতায় এনে গড়ে তোলেন আধুনিক কৃষি খামার। এক কথায় সবুজ বিপ্লব।

বিধানের হাত ধরেই আজ সেই খাল পাড়ের জমি থেকে উঠছে দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফল-সবজি। যা বাজারজাত হয়ে পৌঁছাবে কোটি টাকার ঘরে।খালের দুপাশে মাচায় ঝুলছে দেশি-বিদেশি ১১ জাতের অফসিজন তরমুজ, ৮ জাতের সামমাম, ৬ জাতের বাঙ্গিসহ মোট ১৭৩ জাতের ফল ও সবজি। সবজি খেতের ভেতর দিয়ে হাঁটলে চোখে পড়ে লাউ, করলা, বরবটি, মিষ্টি কুমড়াসহ নানা রঙের সবজির সমাহার।বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩৫-৪০ জন নারী-পুরুষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হচ্ছে এই খালপাড়ে। ফলে শুধু কৃষিই নয়, সৃষ্টি হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন কর্মচাঞ্চল্য।

কৃষক বিধান মন্ডলের হিসেবে ৩০ হাজার তরমুজ গাছে প্রতিটি গাছে গড়ে ২-৩টি করে ফল ধরছে। এতে উৎপাদন হবে অন্তত ৬০-৬৫ হাজার তরমুজ। প্রতিটির ওজন আড়াই কেজি থেকে সাড়ে ৮ কেজি পর্যন্ত। বাজারদর কেজিপ্রতি ৪০ টাকা হলে তরমুজ বিক্রি হবে প্রায় ৬০-৬৫ লাখ টাকা।

২৪ হাজার সাম্মাম গাছে প্রতিটি গাছে ৩-৪টি করে ফল ধরছে। প্রতিটি সামমামের ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত। বাজারে কেজিপ্রতি ৬০ টাকা হলে সামমাম বিক্রি হবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির করলা, লাউ, বরবটি ইত্যাদি সাপ্তাহিক ২০০ কেজি হারে বাজারজাত শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে তার খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা।আর প্রত্যাশিত আয় হবে কোটি টাকারও বেশি।

স্থানীয় জমির মালিক কাত্তিক চন্দ্র সরদার বলেন, বিধান মন্ডল খালের দুপাড়ে আমাদের পরিত্যক্ত জমি পরিষ্কার করে কাজে লাগিয়ে শুধু ফসল ফলাননি, আমাদেরও নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এখন আমরা কৃষিকাজে আগ্রহী হয়ে উঠছি।

শ্রীকান্ত হালদার জানান, আমার বাড়ি পাশের গ্রামে হলেও বিধান বাবুর অভূতপূর্ব ফল ও ফসল উৎপাদন দেখতে এসেছি। আমার মতো প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এ কৃষি প্রজেক্ট দেখতে আসছে। আগামীতে আমরাও আধুনিক কৃষির সাথে সম্পৃক্ত হব।উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমিত দেবনাথ জানান, বিধান বাবুর অধুনিক কৃষি প্রজেক্টের সকল ধরনের সমস্যা ও সম্ভাবনার পাশে উপজেলা কৃষি অফিস সব সময় কাজ করছে।

বিধান মন্ডল জানান, তিনি ইউটিউব চ্যানেল ও কৃষি গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থকে উন্নতমানের বীজ সংগ্রহ করেছেন। সার প্রয়োগে জৈবসার ব্যবহার করেছেন এবং রোগবালাই দমনে ব্যবহার করেছেন বহুজাতিক সিনজেনটা কোম্পানির জৈব বালাইনাশক।আমি চেষ্টা করেছি আধুনিক প্রযুক্তি আর স্থানীয় মানুষের সহায়তায় কিছু করার। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ দিনের মধ্যে বাজারজাত শেষ হবে। আশা করছি ভালো দাম পাওয়া যাবে।

দুশ্চিন্তা রয়ে গেছে তবে এই সফলতার মাঝেও বিধান মণ্ডলের একটাই দুশ্চিন্তা- ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। তিনি বলেন, ফসল বাজারজাত করতে ভাঙা রাস্তা আর দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আমাকে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এই সমস্যা সমাধান করে, তবে আমাদের মতো কৃষকদের স্বপ্ন আরও বড় আকারে বাস্তবায়িত হবে।

এক সময় যে খালপাড় অন্ধকারে ঢাকা ছিল, আজ সেখানে ভোরের রোদে ঝলমল করছে সবুজের সমারোহ। কৃষক বিধান মন্ডলের হাত ধরে পাইকগাছায় যে সবুজ বিপ্লব ঘটছে, তা শুধু কৃষি উৎপাদনই নয়, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.একরামুল হোসেন জানান, দ্বীপ বেষ্টিত দেলুটী ইউনিয়নের কালীনগর এলাকায় বিধান মন্ডল পতিত জমিতে আধুনিক কৃষি প্রজেক্ট তৈরি করেছন। সেখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফল ফসল উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস তার পাশে থেকে কাজ করছে।

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

Copyright © 2022 KhulnarKhobor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:-  ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।