Fri. May 24th, 2019

যে বিরল রেকর্ড আজহার চাননি

নিজের প্রথম ও শেষ টেস্টে সেঞ্চুরি করে বিরল কীর্তি গড়েছেন অ্যালিস্টার কুক। কিন্তু আজ থেকে ১৮ বছর আগে একই রেকর্ডের অধিকারী হয়েও আনন্দ করার বা তৃপ্তিবোধের সুযোগ মেলেনি ভারতের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের। ১৯৮৪ সালে নিজের টেস্ট অভিষেকে সেঞ্চুরি করেছিলেন আজহার। কেবল অভিষেক টেস্টেই নয়, নিজের প্রথম তিন টেস্টে সেঞ্চুরি করে ক্রিকেট-দুনিয়ায় আলোড়ন তুলেছিলেন তিনি। আজহার ২০০০ সালে নিজের শেষ টেস্টেও সেঞ্চুরি করেছিলেন। কিন্তু কুকের সঙ্গে তাঁর পার্থক্য হলো, আজহার জানতেন না যে নিজের ৯৯তম টেস্টেই শেষ হয়ে যাবে তাঁর ক্যারিয়ার।

২০০০ সালে ম্যাচ গড়াপেটার বিষয়টি সামনে চলে এলে আর কখনোই ভারতের হয়ে খেলা হয়নি আজহারের। এর আগে বেঙ্গালুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। ঘটনাচক্রে সেটিই হয়ে থাকে ক্যারিয়ারে তাঁর শেষ টেস্ট।

কুকের এই কীর্তিতে আজহার কিন্তু খুশি। ইংলিশ এই ক্রিকেটারের অর্জন যে সহজ কিছু নয়, সেটি সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন আজহার, ‘জীবনের প্রথম ও শেষ টেস্টে সেঞ্চুরি করা মোটেও সহজ কিছু নয়। অভিষেক টেস্টে একজন ক্রিকেটার থাকে অনভিজ্ঞ। তার ওপর অনেক চাপ থাকে, দলের ভেতরে, বাইরে। বন্ধুবান্ধব আত্মীয়স্বজনও চায় খেলোয়াড়টি ভালো করুক। তাই খুবই চাপের মধ্য থেকে তাকে খেলতে হয়।’

ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টেও একজন ক্রিকেটার চাপে থাকেন। তত দিনে একজন খেলোয়াড় যথেষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন করে ফেললেও শেষ টেস্টেও সবার প্রত্যাশা একধরনের চাপ তৈরি করে। ক্যারিয়ারের শেষটা যেন সুন্দরভাবে হয়, সেই প্রত্যাশাটাই চাপ তৈরি করে দেয় বলে মনে করেন আজহার, ‘শেষ টেস্টটা যদি দেশের মাটিতে হয়, তাহলে চাপটা আরও বেশি। এই ম্যাচে সবাই চায় বিদায়ী খেলোয়াড়টি ভালো করুক। প্রতিপক্ষের কাছ থেকেও নানা শুভকামনা পাওয়া যায়। শেষ টেস্টে তাই সেঞ্চুরি করাটাও খুব সহজ নয়।’

কুকের অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েও ইতিবাচক আজহার। বলেছেন, একজন খেলোয়াড় কত দিন খেলবেন, সেটি পুরোপুরি নির্ভর করে তাঁর নিজের ওপরই, ‘কোনো খেলোয়াড় যদি মনে করে যথেষ্ট খেলেছি, তাহলে সে সঠিক সময় বেছে নিয়ে বিদায় জানাতেই পারে।’