মোঃ জসিম উদ্দিন তুহিন,যশোর জেলা প্রতিনিধি।।যশোর, ৬ ডিসেম্বর: আজ ঐতিহাসিক যশোর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের পর হানাদারমুক্ত হয় যশোর জেলা। এটি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্ত, কারণ এদিনই দেশের প্রথম জেলা হিসেবে শত্রুমুক্ত হওয়ার বিরল গৌরব অর্জন করে যশোর।
৬ ডিসেম্বরের সেই ভোর ছিল স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়ার এক ঐতিহাসিক সকাল—৫ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণে পাক হানাদার বাহিনী যশোর ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে খুলনার দিকে পালাতে শুরু করে এবং ৬ ডিসেম্বর ভোরে মিত্র ও মুক্তিবাহিনী শহরে প্রবেশ করে। সেদিন হাজার হাজার মুক্তিকামী জনতা তাঁদের স্বাগত জানায়। দড়াটানার ঐতিহ্যবাহী আলী মঞ্জিলের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কুচকাওয়াজ ছিল সেই দিনের এক অবিস্মরণীয় দৃশ্য। যুদ্ধবিধ্বস্ত মুক্ত শহরে প্রথমবারের মতো উড্ডীন হয় স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। মুক্তির এই উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের অলিগলি। বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, নারাঙ্গালীর আব্দুস সাত্তার, দেয়াড়ার শাহাদত হোসেন, খয়েরতলা মোড়ের আব্দুল মান্নান, পোস্ট অফিস পাড়ার খুরশীদ আনোয়ার বাবলুসহ আজও যে ক’জন মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে রয়েছেন, তাঁদের ৬ ও ৭ ডিসেম্বরের স্মৃতি আজও জ্বলজ্বল করে ভাসে। ঐতিহাসিক এই দিনটি পালনে যশোর জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিজয় র্যালি, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনা সভা। জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের, যাঁদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছিল এই মহান মুক্তি।
আপনার যদি এই প্রতিবেদনটি অন্য কোনো সংবাদপত্রের জন্য তৈরি করা বা এর দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়, তাহলে আমাকে জানাতে পারেন।পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে প্রচন্ড যুদ্ধে লেফটেন্যান্ট আনোয়ারসহ অনেকেই এখানে শহীদ হন। জুলাই মাস থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের গতিধারা পাল্টে যায়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা যশোর শহর ও অন্যান্য এলাকায় পাকবাহিনীর অবস্থানগুলোতে আক্রমণ চালাতে থাকে।যশোর মুক্তিযুদ্ধের ৮নং রণাঙ্গন। কমান্ডার ছিলেন তদানীন্তন মেজর মঞ্জুর। অন্যদিকে, পাক বাহিনীর মোতায়েন ছিল ১০৭ নং ব্রিগেড। এর কমান্ডার ছিলেন বিগ্রেডিয়ার হায়াত খান। যশোর সেনানিবাস থেকে শত্রু বাহিনী ৬টি জেলা নিয়ন্ত্রণ করতো। ২০ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী যশোর সেনানিবাস দখলে অভিযান শুরু করে। পাক বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের শক্তিশালী ঘাঁটি চৌগাছা ঘিরে ফেলে সম্মিলিত বাহিনী। মিত্র বাহিনীর গোলার আওতায় আসে যশোর সেনানিবাস।২২ নভেম্বর রাতে পতন হয় চৌগাছার। হানাদার বাহিনী সলুয়া বাজারে তৈরি করে অগ্রবর্তী ঘাঁটি। এ সময় যশোর সেনানিবাসের তিন দিকেই মিত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনী শক্ত ঘাঁটি গেড়ে বসে। এ অঞ্চলের পাক বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার হায়াত খান প্রাণ ভয়ে তার অফিস স্থানান্তর করেন খুলনায়। প্রতিরোধ যুদ্ধের শেষ অভিযান চলে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর। যুদ্ধে টিকতে না পেরে ৬ ডিসেম্বর বিকেলে পাক বাহিনী যশোর ক্যান্টনমেন্ট অরক্ষিত অবস্থায় রেখেই পালিয়ে যায় খুলনার দিকে। সেদিন যশোর শহরে মিত্র বাহিনীর যে ট্যাংক বহর বিজয় উল্লাস করতে করতে ঢোকে,তার অগ্রভাগে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নারাঙ্গালীর আব্দুস সাত্তার। তাছাড়াও শহরের আশপাশে গেরিলা যুদ্ধরত বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেদিন সশস্ত্র অবস্থাতেই শহরে প্রবেশ করে বিজয় মিছিল করেন। অস্ত্র কাঁধে নিয়ে কুচকাওয়াজ করে দড়াটানার ঐতিহ্যবাহী আলী মঞ্জিলের সামনে দিয়ে। তাঁদের মধ্যে আজও যে ক’জন মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে রয়েছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, নারাঙ্গালীর আব্দুস সাত্তার, দেয়াড়ার শাহাদত হোসেন, খয়েরতলা মোড়ের আব্দুল মান্নান, পোস্ট অফিস পাড়ার খুরশীদ আনোয়ার বাবলুসহ আরও অনেকের ৬ ও ৭ ডিসেম্বরের স্মৃতি আজও জ্বলজ্বল করে ভাসে।
মুক্ত হয় যশোর জেলা। যুদ্ধবিধ্বস্ত মুক্ত শহরে উড়ে স্বাধীন দেশের পতাকা।আজ ঐতিহাসিক যশোর মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
Copyright © 2022 KhulnarKhobor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।